গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে রোদে বেরোলেই অনেকের মাথা ঘোরা, গা গোলানো ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এর প্রধান কারণ পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন, শরীরে লবণের ঘাটতি এবং মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া। চড়া রোদে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় এবং মাথা ঘোরে।
কেন মাথা ঘোরে?
গরমের কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বাইরের তাপের সাথে ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে শরীর আনচান করে, অস্বস্তি শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে বা একটানা কাজ করলে শরীর থেকে পানি শুকিয়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। আবার গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডা ঘরে ঢুকলেও মাথা ঘোরা ও গা গোলানো ভাব হতে পারে।
শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপায়
এই সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করা জরুরি। নিচে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দেওয়া হলো:
- সহজপাচ্য খাবার খান: বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত। পাতে রাখুন সবুজ শাকসবজি, বিশেষ করে পটোল, ঝিঙের মতো পানিভর্তি সবজি। প্রথম পাতে একটু ঘি খেতে পারেন।
- ডাবের পানি পান করুন: তৃষ্ণা পেলেই ডাবের পানি পান করুন। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং পানিশূন্যতা দূর করে।
- রোদ থেকে ফিরে বিশ্রাম নিন: রোদ থেকে ফিরে কিছুক্ষণ বসে শরীরের তাপমাত্রা কমতে দিন। তারপর লেবু ও বিট লবণের শরবত খেতে পারেন।
- দই খান: দই শরীর ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত উপকারী। দই দিয়ে ফলের স্মুদি, ঘোল, দই-চিড়া বা টকদই খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল, লবণ ও টকজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
- তরমুজের শরবত: তরমুজের শাঁস মিক্সিতে বেটে পানির সাথে মধু মিশিয়ে বরফ দিয়ে খান। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে।
- শসার শরবত: শসা মিক্সিতে বেটে বিট লবণ মিশিয়ে খান। এটি ওজন কমাতেও সহায়ক।
চিকিৎসকদের মতে, চড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এসব প্রাকৃতিক উপায় মেনে চললে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং গরমের অস্বস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।



