কুরবানির ঈদের সময় বা তার কিছুদিন আগে থেকেই গরুর হাটে পশু অসুস্থ হয়ে পড়া বা মারা যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটে। মূলত পশু সম্পূর্ণ সুস্থ না থাকলেই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আমাদের জানতে হবে কীভাবে আমরা সুস্থ পশু নির্ধারণ করব। কারণ কুরবানির পশু সুস্থ না হলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পশু কেনার আগে কী কী লক্ষ্য রাখবেন
পশু কেনার আগে প্রথমেই তার আচরণ ও শারীরিক অবস্থা খেয়াল করা প্রয়োজন। সুস্থ পশু সচল ও চঞ্চল থাকে, কান ও লেজ নাড়ায় এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে। চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল, নাক হালকা ভেজা এবং শরীরের লোম মসৃণ ও চকচকে থাকা ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষণ। শরীরে ঘা, ক্ষত, চুলকানি বা পোকা থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি পশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
জাবর কাটা ও স্বাভাবিক আচরণ
গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত জাবর কাটা সুস্থতার একটি বড় লক্ষণ। সাধারণত অসুস্থ পশু কম জাবর কাটে বা একেবারেই কাটে না। তাই পশু কেনার সময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা ভালো।
কৃত্রিম মোটাতাজাকরণের লক্ষণ
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর শরীর অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। এসব পশুর হাঁটাচলায় দুর্বলতা, হাঁপানো কিংবা অতিরিক্ত টানটান ও চকচকে চামড়া দেখা যেতে পারে। অনেক সময় শরীরে ইনজেকশনের দাগও থাকে। এ ধরনের পশুর মাংস দীর্ঘদিন খেলে মানুষের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিডনি ও লিভারের সমস্যা, হজমের জটিলতা এবং অ্যালার্জির মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর পরিবহন ও হাটে যত্ন
ট্রাক বা নৌকায় অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পশু পরিবহন করলে আঘাত, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বাসের ডিকি বা ছোট বক্সে ছাগল-ভেড়া বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে পর্যাপ্ত বাতাস না পেয়ে পশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় হাটে দাঁড়িয়ে থাকলেও পশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে তারা ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে যায়, খাবারে অনীহা দেখা দেয় এবং মাংসের গুণগত মানও কমে যেতে পারে।
কুরবানির আগে পশুর খাবার ও পরিচর্যা
কুরবানির আগে পশুকে পরিষ্কার পানি, ঘাস, খড়, ভুসি ও স্বাভাবিক দানাদার খাবার দিতে হবে। হঠাৎ অতিরিক্ত বা অপরিচিত খাবার না দেওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাভাবিক খাদ্য পশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
অসুস্থ পশুর করণীয়
হাটে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ভিড় ও রোদ থেকে সরিয়ে শান্ত স্থানে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার পানি দিতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ প্রয়োগ না করে নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সচেতনতার গুরুত্ব
কুরবানির ঈদে সুস্থ পশু নির্বাচন এবং পশুর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সামান্য সচেতনতাই নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করার পাশাপাশি পশুর অপ্রয়োজনীয় কষ্টও অনেকটা কমাতে পারে।



