চট্টগ্রাম নগরের ফলমন্ডির আড়ত ও দোকানগুলো এখন নানা জাতের আমে সাজানো। মৌসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে ট্রাকে আম আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ বুঝে নেওয়া, দাম নির্ধারণ এবং বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আল্লার দয়া স্টোরে আমের সরবরাহ
চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি ফলের আড়ত ‘আল্লার দয়া স্টোর’ স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শাহ আলম জানান, রাজশাহী, নাটোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি আম এনে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে সাতক্ষীরার আম বেশি আসছে। গত রোববার থেকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আম আসা শুরু হয়েছে।
সবে মৌসুম শুরু হলেও প্রতিদিন এক থেকে দুই গাড়ি আম আসছে আল্লার দয়া স্টোরে। এক গাড়িতে থাকে ৫০০ ক্রেট, প্রতিটি ক্রেটে গড়ে ২৫ কেজি আম, অর্থাৎ এক গাড়িতে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কেজি আম। মৌসুমের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে প্রতিদিন পাঁচ-ছয় গাড়ি আম আসে। শাহ আলম বলেন, ‘আমের মৌসুমে বিক্রি বেড়ে যায় এবং ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকে। এই ব্যস্ততা আনন্দের।’
উৎপাদন ও জাতভেদে আমের সরবরাহ
দেশে আমের প্রধান উৎপাদনক্ষেত্র হলো রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা ও পার্বত্য জেলা। চট্টগ্রামের ফল ব্যবসায়ীরা মূলত এসব জেলার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি ওই অঞ্চলে গিয়ে বাগান কিনে আম নিয়ে আসেন।
চট্টগ্রামের বাজারে মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। মে মাসের শুরুতে এসেছে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও হিমসাগর। জুনে শুরু হবে আম্রপালি, ফজলি, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, আশ্বিনা ও রুপালি আমের মৌসুম। সরবরাহ সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে গুটি, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, সীতাভোগ ও গোবিন্দভোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাটিমন ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো নামের দুটি বিশেষ জাতও বাজারে দেখা যাচ্ছে।
দাম ও ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, এ বছর দেশে আমের উৎপাদন বেশি হয়েছে। দাম হাতের নাগালে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার পর সরবরাহ আরও বাড়বে।
ফলমন্ডিতে হিমসাগর প্রতি কেজি ৫০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ও মানসম্মত হিমসাগরের দাম ৬৫ টাকা, ছোট ও মাঝারি আকারের আম ৫০ টাকা। সীতাভোগ প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় এবং সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে গুটি আম, প্রতি কেজি ৩৫-৪৫ টাকা। আগেভাগে বাজারে আসা গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগের দাম ৫৫-৬০ টাকা। রুপালি ৯০-১১০ টাকা, কাটিমন ৬০ টাকা এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গো ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি। কাজীর দেউড়ি, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও ২ নম্বর গেটের দোকানে গোপালভোগ ও হিমসাগর ১০০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা জানান, এলাকা, আকার ও মানভেদে দামের তারতম্য হয়।
খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ সোলাইমান হাটহাজারী থেকে এসে হিমসাগর কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আম মিষ্টি না হলে ক্রেতারা কিনতে চান না। এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা হিমসাগরের।’ বাকলিয়া থেকে আসা মোহাম্মদ সাইফুল ৫০ কেজি হিমসাগর ও ৫০ কেজি গোবিন্দভোগ কিনে নিয়ে যান। তিনি জানান, হিমসাগর ৫০ টাকা ও গোবিন্দভোগ ৫৫ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করবেন বলে জানান।



