ঈদের ছুটিতে উত্তরমুখী যানবাহনের চাপে জ্যামে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক
ঈদের ছুটির আগে উত্তরমুখী যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩.৫ কিলোমিটার সড়কপথে এই যানজটের খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৫,৪৪০টি যানবাহন সেতুটি পার হয়েছে, যা থেকে ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
টোল আদায় ও যানবাহনের চলাচলের পরিসংখ্যান
সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, উক্ত সময়ে ঢাকার দিকে ১২,৯৮১টি যানবাহন চলাচল করেছে, যার টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর দিকে ১২,৪৫৯টি যানবাহন পার হয়েছে, যা থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা টোল সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে ঈদের ছুটিতে উত্তরমুখী যানবাহনের চাপ সামান্য বেশি, যদিও উভয় দিকেই যান চলাচল প্রায় সমান।
ঈদ ভ্রমণ মৌসুমে বিশেষ ব্যবস্থা
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদ ভ্রমণের সময় যানজট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সেতুর প্রতিটি পাশে নয়টি করে টোল বুথ থাকবে, মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে যানবাহন পার হবে।" এছাড়াও, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে, উভয় পাশে দুটি করে বুথ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
টোল আদায়ের ইতিহাস ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা
যমুনা সেতুটি ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে টোল সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্কের অধীনে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর, ২০১২ সালের শেষ দিকে এই দায়িত্ব চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিই সেতুর টোল আদায়ের কাজ পরিচালনা করে আসছে।
ঈদের এই ভ্রমণ মৌসুমে যানজট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপগুলো যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।



