মৃত ব্যক্তির জন্য ৩, ৪০ বা ২১ দিন পালন জায়েজ নয়: শায়খ আহমাদুল্লাহর স্পষ্ট বক্তব্য
বর্তমান মুসলিম সমাজে একটি প্রচলিত রীতি হলো, কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য তিন দিন, ৪০ দিন বা ২১ দিন পালন করা। তবে এই প্রথা ইসলামে জায়েজ কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
ইসলামের নির্দেশ নয় এই রীতি
সম্প্রতি এক প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, "কোনো মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য তিন দিন, ৪০ দিন বা ২১ দিন পালনের রীতি আছে। কিন্তু এগুলো একটিও ইসলামের নির্দেশ নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, মৃত মানুষকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়, তার বেশিরভাগই হিন্দু ভাইদের শ্রাদ্ধ প্রথা থেকে এসেছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "শ্রাদ্ধ মানে কোনো মানুষের মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজনকে খাওয়ানো। আমাদের দেশে এই কালচার হিন্দুদের থেকে এসেছে, এটি মুসলমানের কালচার নয়।" তিনি মুসলমানদের এই প্রথা টেনে আনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
সঠিক পদ্ধতি কী?
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কোনো মানুষ মারা গেলে তার ওয়ারিশ ও আত্মীয়স্বজনকে এলাকাবাসীর খাওয়ানো উচিত, কারণ শোকগ্রস্ত ব্যক্তির রান্না করার মানসিকতা থাকে না। তবে তিনি বাংলাদেশে প্রচলিত ৪০ দিনে গরু জবাই করে পুরো গ্রামবাসীকে খাওয়ানোর প্রথাকে জায়েজ বলেননি।
তিনি নির্দিষ্ট দিন পালনের পরিবর্তে নিম্নলিখিত আমলগুলোর পরামর্শ দেন:
- দোয়া ও ইস্তেগফার: মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
- দান-সদকাহ: গরিব-দুঃখীদের খাবার বা আর্থিক সাহায্য করা, তবে নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠান আকারে নয়।
- সদকায়ে জারিয়া: রাস্তা নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
- ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির কোনো দেনা থাকলে দ্রুত পরিশোধ করা।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্য মুসলিম সমাজে প্রচলিত কিছু প্রথা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।



