কুষ্টিয়ায় 'পীর' আবদুর রহমানের মৃত্যু: পরিবারের মামলা না করার সিদ্ধান্ত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় স্বঘোষিত 'পীর' আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবদুর রহমান, যিনি শামিম রেজা ও জাহাঙ্গীর নামেও পরিচিত, শনিবার বিকেলে স্থানীয় একটি দরবার শরীফে জনতার হামলায় নিহত হন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত
নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সোমবার সকালে বলেন, 'আমরা, পরিবারের সব সদস্য, মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি'। তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি বয়স্ক, এই বিষয়গুলো নিয়ে মোকাবিলা করার সামর্থ্য আমার নেই'।
ফজলুর রহমান জানান, রবিবার বিকেলে দাফনের পর রাতে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হন। তিনি বলেন, 'পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বারবার আমাদের মামলা করার জন্য বললেন, কিন্তু আমরা এগোতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি'।
পুলিশের অবস্থান
দৌলতপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান রবিবার রাতে বলেছিলেন, তারা মৃতের পরিবারের মামলা করার অপেক্ষায় আছেন। সোমবার সকালে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে ওসি আরিফুর বলেন, 'আমি শুনিনি যে তারা মামলা করবে না। তারা আজ আসতে পারেন'।
ঘটনার পটভূমি
৬৫ বছর বয়সী আবদুর রহমান শনিবার বিকেলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের 'শামিম বাবার দরবার শরীফ' নামক স্থানে পিটুনি ও কুপিয়ে হত্যার শিকার হন। স্থানীয়দের মতে, ২০২৩ সালের একটি পুরনো ভিডিও পুনরায় সামনে আসার পর নিন্দার অভিযোগ ওঠে, যা হামলার সূত্রপাত ঘটায়।
এই ঘটনায় তার তিন অনুসারী—জুবায়ের, মোহন আলী ও জামিরুন নেসা—আহত হন এবং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পরিবারের মনোভাব
ফজলুর রহমানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, পরিবার আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে চায়। তিনি বলেন, 'আমরা শান্তি চাই, এই ঘটনা নিয়ে আর উত্তেজনা তৈরি করতে চাই না'। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ মামলা ছাড়া আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন হতে পারে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও পরিবারের সাথে আলোচনা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত পরিবারের অনিচ্ছাই প্রাধান্য পেয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, অনেকেই পরিবারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কেউ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।



