বিশ্বের অনেক দেশে নাগরিকত্ব লাভের জন্য নির্ধারিত বয়সের শর্ত থাকে। কোনো ব্যক্তির বয়স যদি সেই নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হন না। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য বয়স কমিয়ে মিথ্যা বলার আশ্রয় নেওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ কিনা, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে।
মিথ্যার পরিণাম
ইসলামে মিথ্যাকে সব পাপের জননী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা পরিত্যাগ করে, সে দুনিয়াতেই জান্নাতি জীবন যাপন করতে পারে। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বয়স কমিয়ে মিথ্যা বলা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। বরং এভাবে মিথ্যা বলে নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে মিথ্যা বলার গুনাহ হবে।
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: ‘মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা’নত করি।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৬১)
হাদিসের শিক্ষা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় (অর্থাৎ সে প্রকৃত মুসলমানদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত)।’ (মুসলিম ১৬৪, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ২৩১৪৭, আদ-দারিমি ২৫৮৩, ইবনে মাজাহ ২২২৫, ইবনে হিব্বান ৪৯০৫)
- নাগরিকত্বের জন্য বয়স কমিয়ে মিথ্যা বলা সম্পূর্ণ হারাম।
- মিথ্যা বলার মাধ্যমে আল্লাহর লানতের পাত্র হওয়া যায়।
- প্রতারণা করা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।
সুতরাং, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বয়স কমিয়ে মিথ্যা বলা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ এবং এর ফলে ইহকাল ও পরকালে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। প্রতিটি মুসলমানের উচিত সত্য কথা বলা এবং প্রতারণা থেকে বিরত থাকা।



