ইরানের প্রয়াত নেতা খামেনির জানাজা জিলহজ-মহররমে হওয়ার সম্ভাবনা
খামেনির জানাজা জিলহজ-মহররমে হওয়ার সম্ভাবনা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষভাগ এবং মহররমের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ। সে হিসাবে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।

বৈঠকে তথ্য প্রকাশ

মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। তাভাকোলিজাদেহ বলেন, দাফন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং এ উপলক্ষে তিন দিনের 'পিপলস প্যারেড' বা শোক মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জানাজার সময়সূচি

তিনি জানান, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা চলবে। রাজধানীতে দেড় থেকে দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন শহরে জানাজা

তাভাকোলিজাদেহ বলেন, তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও একই ধরনের আয়োজনের অনুরোধ এসেছে। পরিবারের সুপারিশের ভিত্তিতে খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ

তেহরানের উপমেয়র আরও বলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, কাশ্মীরসহ পূর্ব ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মকর্তা ও শোকাহত ব্যক্তিরা মাশহাদে উপস্থিত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হামলার প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানে নিজের কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। গত সপ্তাহে তেহরানে তাদের স্মরণে পৃথক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি

এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেন, খামেনির জানাজা হবে ইসলামি বিশ্ব ও ইরানের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠান। তিনি জানান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

খামেনির জীবনকাল

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ৩৬ বছর ছয় মাস ওই পদে ছিলেন। সূত্র: বিবিসি