তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের পথে বিজয়
টানা কয়েকদিনের অনিশ্চয়তা, জোট-আলোচনা ও সংখ্যার অঙ্কের পর অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক ‘থালাপতি’ বিজয়। তিনি দাবি করেছেন, তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এখন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আর্লেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। যদিও গভর্নর ভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় নিশ্চিত করা হয়নি।
নির্বাচনে টিভিকের চমক
গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে চমক সৃষ্টি করে টিভিকে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বৈত আধিপত্যে বড় ধাক্কা দেন বিজয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১০টি আসনের সমর্থন।
গভর্নরের শর্ত
প্রথমদিকে গভর্নর আর্লেকার স্পষ্ট করে দেন, পর্যাপ্ত সমর্থনের নিশ্চয়তা ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা বৈঠকেও বিজয়কে ফিরিয়ে দেন তিনি। গভর্নর জানতে চান, ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন বিজয় এবং কারা তাকে সমর্থন দেবে। এরপর থেকেই জোট গঠনের তৎপরতা জোরদার করে টিভিকে।
কংগ্রেসসহ ছোট দলগুলোর সমর্থন
ডিএমকের দীর্ঘদিনের মিত্র কংগ্রেস প্রথমে বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। তবে শর্ত ছিল—টিভিকে যেন বিজেপি বা ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র সঙ্গে কোনো জোট না করে। কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক যোগ হওয়ায় টিভিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩।
এরপর টিভিকে আলোচনা শুরু করে ভিসিকে (ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি), সিপিআই ও সিপিএমের সঙ্গে। শুক্রবার দুপুরে একাধিক বৈঠকের পর এসব দলও বিজয়কে সমর্থন দিতে সম্মত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তিন দলের মোট ৬ জন বিধায়কের সমর্থন মেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হয়। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের একজন এবং টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকের একমাত্র বিধায়কও বিজয়ের পক্ষে থাকতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বাম দল থাকবে বাইরে, মন্ত্রী চাইছে কংগ্রেস
সূত্র বলছে, সিপিআই ও সিপিএম সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না। অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুইটি মন্ত্রিত্ব চাইছে।
ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের গুঞ্জন
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার সকালজুড়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট নিয়েও জোর গুঞ্জন ছিল। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দ্রাবিড় দলের মধ্যে ‘অস্বাভাবিক জোট’ হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থানই দুই দলের উদ্বেগের মূল কারণ। ডিএমকের একাংশ আশঙ্কা করছে, একবার ক্ষমতায় এলে বিজয় এমজিআরের মতো দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রাখতে পারেন। অন্যদিকে এআইএডিএমকের ভেতরেও গত এক দশকের ধারাবাহিক নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোট বাস্তবায়িত হয়নি। দুই দলের শীর্ষ নেতারাই এমন সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
বিজেপির অবস্থান
এদিকে টিভিকে ও গভর্নরের মধ্যকার টানাপড়েনে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপাথি বলেন, ‘এটি একটি বিভক্ত জনরায়। টিভিকের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। যদি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে গভর্নর সাংবিধানিকভাবেই তাকে গ্রহণ করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবকিছু সাংবিধানিকভাবেই হবে। গভর্নরের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া কিছু নয়।’



