হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চললেও ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র একটি গোপন বিশ্লেষণ। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও অন্তত তিন থেকে চার মাস ইরান টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে কী বলা হয়েছে?
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো ওই বিশ্লেষণী নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। এ মূল্যায়ন প্রকাশ্যে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, অবরোধ ও হামলার কারণে ইরান দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার পরও ইরানের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও শুরু করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে তথ্য
অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগের তুলনায় তাদের সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও গত এপ্রিলের শেষ দিকে মন্তব্য করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের চাপে ইরানের তেল অবকাঠামো স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে ইরান বাস্তবিকভাবেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে রয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে ১৩ এপ্রিল থেকে ওই এলাকায় ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট



