১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর (নওগাঁ-৪) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা জনগণের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।"
বিসিএসের মাধ্যমে সাম্প্রতিক নিয়োগের তথ্য
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে বিসিএসের মাধ্যমে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন:
- চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২,৯৮৪ জন সহকারী সার্জন ও ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- একইভাবে, ৪৪তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) এবং ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ পেয়েছেন।
- এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এই নিয়োগগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতের জনবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
করোনা ভ্যাকসিন বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব
ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের তারকাচিহ্নিত আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সরকারের বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য দেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ থেকে এ যাবৎ করোনা ভ্যাকসিনসহ সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় মোট ৪,৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২,২৯৭ টাকা বরাদ্দ করেছে।
এই বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে:
- ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪,৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
- সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
- ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ পরিবহনে ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩,৩৫৪ টাকা।
- সিরিঞ্জ শিপিং চার্জ হিসেবে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি
মন্ত্রী আরও বলেন, ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "সরকার সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার ও পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন ঘটায়।



