এক বিষয়ে ৫ বার ফেল, শিক্ষকের রোষানলে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
শিক্ষকের রোষানলে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এক বিষয়ে পাঁচবার ফেল, শিক্ষকের রোষানলে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী একই বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষায় ফেল করার পর আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকের রোষানলে পড়ে তিনি পর্যাপ্ত নম্বর পাননি, যা তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ১০৯ পিস এভেন্ডার ৪০ মিলিগ্রাম ওষুধ সেবন করেছিলেন।

অর্পিতা নওশিনের গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। তিনি এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর সাদা এপ্রোনের মায়ায় বেসরকারি এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষার ইতিহাস ও অভিযোগ

অর্পিতার বন্ধুদের মতে, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও শুধুমাত্র এনাটমি বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হন। এরপর গত তিন বছরে তিনি আরও চারবার এনাটমির পরীক্ষা দেন, কিন্তু প্রতিবারই তাকে ফেল দেখানো হয়।

গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ করে। ২০২১-২২ সেশনের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও অর্পিতা নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, "আমার বোনের এমন কোনো মানসিকতা ছিল না যে সে আত্মহত্যা করবে। মূলত কলেজের মানসিক চাপ থেকে এটা করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন। সবাইকে পাশ করিয়ে দেন, কিন্তু আমার বোনকে শুধু একটি বিষয়ে আটকে রাখেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, "গতকালও তার সঙ্গে কথা বলেছি। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা নিয়েছিল। আমাকে বলল, 'ভাই, আমি বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর।' আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সঙ্গে ফর্ম ফিলআপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আজ এমন খবর পাব, তা কোনোদিন কল্পনাও করিনি।"

কলেজ কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও পুলিশি তদন্ত

এ বিষয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন এবং এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, "সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

এই ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উন্মোচিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেডিকেল শিক্ষার মতো চাপসৃষ্টিকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।