লেগো দিয়ে হাতের চিকিৎসা, গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড
লেগো দিয়ে হাতের চিকিৎসা, গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড

কানাডার ফ্রেডরিক অলিভার নিজেকে সুস্থ রাখতে বহু বছর ধরে লেগো কেনেন ও জোড়া দেন। এভাবে লেগো সেট জমতে জমতে তাঁর বিশাল সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে। এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টার ওয়ার্স লেগো সেটের মালিক তিনি, গড়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

লেগো কী এবং কেন এটি বিশেষ?

লেগো হলো একধরনের খেলনা; যেখানে প্লাস্টিকের ব্লকগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে বিভিন্ন কাঠামো, বাড়ি, গাড়ি, রোবট বা অন্য যেকোনো কিছু তৈরি করা যায়। এটি সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

ফ্রেডরিক অলিভারের গল্প

অলিভারের ঘটনার শুরু ১৯৯৯ সালে। তখন তিনি তরুণ বয়সে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বছরখানেক কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে তাঁর দুই হাতেই কার্পাল টানেল সিনড্রোমের অস্ত্রোপচার করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, অস্ত্রোপচার সফল হয়নি এবং প্রায় এক বছর তিনি হাত প্রায় নড়াচড়াই করতে পারতেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাতের পেশির তন্তু পুনর্গঠনের জন্য অলিভারের পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা ও থেরাপি শুরু হয়। তখন একজন চিকিৎসক তাঁকে সহজ পরামর্শ দেন—ছোট কোনো বস্তু নিয়ে খেলাধুলা বা কাজের মাধ্যমে হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার দক্ষতা পুনর্গঠন করতে। যেমন খেলনা ট্রেন রং করা, কাঠ খোদাই করা বা সূচিশিল্প। কিন্তু এডমন্টনের বাসিন্দা অলিভার এসব না করে বেছে নেন লেগো। কারণ, সৃজনশীল এই খেলা তাঁকে শৈশবের কল্পনাশক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।

একটি একটি করে লেগো ব্রিক জুড়ে অলিভার স্টার ওয়ার্সের একেকটি দৃশ্যের অনুরূপ কাঠামো তৈরি করেন। কাজটি যেমন তাঁর মনোযোগ পুরোপুরি আকর্ষণ করেছিল, একই সঙ্গে হাতের নড়াচড়ার শক্তি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করেছিল।

২৭ বছর পর, বর্তমানে অলিভার তাঁর হাতের ‘প্রায় ৯৫ শতাংশ সক্ষমতা’ ফিরে পেয়েছেন। দিনের পর দিন চর্চা করতে গিয়ে লেগোর প্রতি তাঁর আগ্রহও অনেক বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ব রেকর্ড অর্জন

নিজের বেজমেন্টের তাক ও টেবিলজুড়ে তিনি সাজিয়ে রেখেছেন স্টার ওয়ার্স লেগোর বহু সেট। গত বছর অলিভার সবচেয়ে বেশি স্টার ওয়ার্স লেগো সেট সংগ্রহে থাকার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েন। তখন তাঁর সংগ্রহে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯৯৩টি সেট ছিল। এখন সংগ্রহে ১ হাজার ৫১টি সেট। নতুন সংগ্রহ নিয়ে তিনি আবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেছেন।

অলিভার বলেন, ‘এটি সত্যিই দারুণ একটি অর্জন! বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অনেকে কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলেন, লেগো আমার সেই কল্পনাকে সজীব রাখতে সাহায্য করেছে।’