পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে এক কোটি টাকার জিও ব্যাগ লুট: উদ্বেগজনক ঘটনা
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের ১৩ হাজার ৫৪৬টি জিও ব্যাগ লুটের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনা কেবল নজিরবিহীন নয়, বরং অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, দুই দিনের মধ্যে কয়েক শত মানুষ মিলে বালু ফেলে দিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের এই ব্যাগগুলো লুট করে নিয়ে গেছে। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে এমন গণলুণ্ঠনের ফলে ওই এলাকার নদীভাঙন থেকে জনপদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও লুণ্ঠনের পরিণতি
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মার ভাঙন থেকে চরভাগা ও তারাবুনিয়ার মানুষকে বাঁচাতে সরকার ৫৭০ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অথচ যাদের সুরক্ষার জন্য এ আয়োজন, তাদেরই একটি অংশ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে যখন ভাঙন শুরু হবে, তখন এই এক কোটি টাকার ক্ষতি কেবল টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে এই লুণ্ঠন। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যই বলেছেন, চাকরিজীবনে এমন ঘটনা তিনি দেখেননি।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়
প্রশ্ন জাগে, শত শত মানুষ যখন দুই দিন ধরে এই লুণ্ঠন চালাল, তখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেটি তারা করতে পারেনি। এখানে অবশ্যই তাদের ব্যর্থতা রয়েছে। কেবল সখীপুর থানায় জিডি করা বা এলাকায় মাইকিং করে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। এ ঘটনা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কেও নির্দেশ করে। যখন ব্যক্তিগত লোভ সামষ্টিক স্বার্থ ও জাতীয় সম্পদের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই সফল হওয়া সম্ভব নয়। এই লুণ্ঠন কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কোটি টাকার ক্ষতি নয়, এটি পদ্মাতীরের হাজারো মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার ক্ষতি।
আইনি ব্যবস্থা ও গণসচেতনতা
আমরা আশা করি, সিসিটিভি ফুটেজ বা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় এ ঘটনায় কারা নেতৃত্ব দিয়েছে বা কাদের উসকানি ছিল, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অসংখ্য মানুষকে যেন আইনি হেনস্তা করা না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। এটি একটি গণসামাজিক অপরাধ। ফলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও মাথায় রাখতে হবে, সবার বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দিয়ে এর প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এখানে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। নিজেদের স্বার্থের প্রকল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, ভবিষ্যতে এ ধরনের স্পর্শকাতর প্রকল্প এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।



