নেত্রকোনার পূর্বধলার তিন ইউপি চেয়ারম্যান আদালতের নির্দেশে স্বপদে ফিরলেন
নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা পৃথক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আদালত এই নির্দেশনা জারি করেন। রায়ের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই চেয়ারম্যানদের পুনর্বহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
কারা পুনর্বহাল হয়েছেন?
পুনর্বহাল হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা হলেন পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের রেজুয়ানুর রহমান, খলিশাউড় ইউনিয়নের কমল কৃষ্ণ সরকার এবং নারান্দিয়া ইউনিয়নের আবদুল কুদ্দুছ বেপারি। তাঁদের মধ্যে রেজুয়ানুর রহমান গত ইউপি নির্বাচনে অটোরিকশা প্রতীকে এবং কমল সরকার ও আবদুল কুদ্দুছ নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন।
কেন প্রত্যাহার হয়েছিলেন?
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নেত্রকোনা জেলার ৮৬টি ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে অন্তত ৪২ জনকে মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়। পরে সেগুলোতে প্রশাসক ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যাহার করা চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
আদালতের রায় ও মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা
পূর্বধলার ধলামূলগাঁও, খলিশাউড় ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এই তিন চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা পৃথক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। রায়ের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বহালের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আরিফুল ইসলাম সরদার প্রথম আলোকে মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, "হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তিন চেয়ারম্যানকে স্বপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে জারি করা প্রশাসক নিয়োগ–সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হয়েছে। পুনর্বহালের আদেশের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।"
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিম জাহান বলেন, "আদালতের নির্দেশনা ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্বহালের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।"
চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
পুনর্বহাল হওয়া চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, তাঁরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং আগামীকাল রোববার থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাবেন। এ খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খালিশাউড় ইউনিয়নের বন্দেরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, "এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। কারণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া প্রশাসকের মাধ্যমে জনগণ সার্বক্ষণিক সেবা তেমনভাবে পান না।"
এই ঘটনা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



