মৌলভীবাজারে মাদক বিরোধী অভিযানে ইউপি সদস্যের ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় মাদক কারবারিদের সন্ধানদাতাদের জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।
ইউপি সদস্যের ঘোষণা
ওই জনপ্রতিনিধি হলেন পূর্ব জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সজল কান্তি বাউরি। তিনি ওই ইউনিয়নে সোনারুপা চা-বাগানের বাসিন্দা। ফেসবুক পোস্টে সজল কান্তি বলেন, ‘মাদকের আড়ালে যারা দেশ ও তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়া হবে।’ সাধারণ মানুষদের প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সঠিক ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর, অবস্থানসহ তথ্য দিলে তা গোপন রাখা হবে এবং যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’
স্থানীয় পরিস্থিতি
ওই পোস্টে সজল কান্তি নিজের নাম ও যোগাযোগের নম্বরও যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সোনারুপা চা-বাগানের ভেতরে ইউপির ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। বাগানে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে শ্রমিকেরা সেখান থেকে মদ কিনতে পারেন না। ফলে অনেকে নিজ ঘরে আখের গুড়, সার, পচা ভাত ও বিভিন্ন লতাপাতা দিয়ে চোলাই ও হাড়িয়া তৈরি করেন। সস্তা হওয়ায় শ্রমিকেরা তা কিনে পান করেন, যা তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় পারিবারিক অশান্তি, চুরি ও সংঘর্ষের ঘটনাও বাড়ছে। প্রায়ই এসব নিয়ে সালিস করতে হয়। তথ্য পেয়ে অনেক স্থানে অভিযান চালানো হলেও আগে থেকেই টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেন। তাই তথ্য সংগ্রহে উৎসাহ দিতে ফেসবুকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
এ ধরনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তা পুলিশ বা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান।
কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন বলেন, ‘কোনো ধরনের অভিযান চালানোর ক্ষমতা জনপ্রতিনিধির নেই। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যদাতাকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি পুরস্কৃত করতে পারেন।



