সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
সিলেটে ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ

সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার’ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও নোটিশ অমান্য

ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ভবনটি ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকিতে থাকায় এবং বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও দোকান মালিকরা জায়গা খালি না করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত থেকে ১৮টি দোকানের মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিকল্পনা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে পরবর্তীতে একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং ব্যবসায়ীরা এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে দাবি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রুল ও বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের অভিযোগ

ইজারাগ্রহীতা মাহিদুল ইসলাম মাহিদসহ অন্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উচ্চ আদালত থেকে রুল জারি থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া আইনগতভাবে সঠিক নয় এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবনের ইতিহাস ও সাম্প্রতিক নির্দেশনা

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ প্রবাসীদের সহায়তায় এই ওভারসিজ স্টোর ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। দীর্ঘ বছর সংস্কারহীন থাকা ভবনটির চুক্তি সম্প্রতি বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বাতিল করে ব্যবসায়ীদের মার্কেট ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশনার পর ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত রাতভর নিজেদের দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, এবং ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।