মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে অফিস-বাজার সময়সূচি পরিবর্তন ও ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ কৃচ্ছসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি
সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী কার্যদিবস থেকে সকল অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে, যা পূর্বের তুলনায় এক ঘণ্টা কম। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকাল ৪টায় বন্ধ হবে।
বাজার ও বিপণিবিতানের সময়সীমা
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সকল মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। তবে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই নিয়ম কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ব্যবস্থা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে, যা আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হতে পারে। যানজট নিরসন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে, তবে পুরোনো বাস আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ
সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারিভাবে নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা ও আইন সংশোধন
জ্বালানি সংকটের সময়ে বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’র খসড়া অনুমোদিত হয়েছে, যা ১৯৮০ সালের আইন সংশোধন করে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের বিচার কঠোর করবে।
জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে এবং ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”



