সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের ইউটিলিটি বিলের খেলাপি তথ্য চাইল নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রাক্কালে ইউটিলিটি বিলের খেলাপিদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বকেয়া বিলের তালিকা চাওয়া হয়েছে।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে?
নির্বাচন কমিশন যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
- বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
- ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড
- ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড
- ঢাকা ওয়াসা
- চট্টগ্রাম ওয়াসা
- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড
- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড
- বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড
- জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড
কোন আইনে প্রার্থী অযোগ্য হবে?
নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ থেকে ২৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে।
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেসব প্রার্থীর সরকারি ইউটিলিটি সেবার বকেয়া বিল থাকবে, তারা নির্বাচনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল অন্তর্ভুক্ত।
এই নিয়ম জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ১২ (ঢ) অনুসারে প্রযোজ্য। যাচাই-বাছাই শুরুর আগের দিন পর্যন্ত বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বা সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হবে?
নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিলের পর বিকাল ৪টার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হালনাগাদ খেলাপিদের তালিকা সংগ্রহ করবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তথ্য যাচাই করে এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কর্তৃত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল কী?
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী:
- মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ: ২১ এপ্রিল
- মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই: ২২-২৩ এপ্রিল
- রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের শেষ তারিখ: ২৬ এপ্রিল
- আপিল নিষ্পত্তি: ২৭-২৮ এপ্রিল
- প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২৯ এপ্রিল
- নির্বাচনী প্রতীক বণ্টন: ৩০ এপ্রিল
- ভোটগ্রহণ: ১২ মে
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ও বকেয়ামুক্ত প্রার্থী নিশ্চিত করতে চাইছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।



