সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা: শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা ও আয়ের তথ্য বাধ্যতামূলক
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমার নির্দেশনা

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমার সময় কাগজপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার সময় নির্ধারিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উপসচিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের রায় ও সংশোধিত আইনের প্রেক্ষিতে নির্দেশনা

পরিপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্যাবলী প্রদান সংক্রান্ত রিট পিটিশন নং ২৫৬১/২০০৫ এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২৪ মে ২০০৫ তারিখে প্রার্থীদের তথ্য প্রদান ও প্রচারের নির্দেশনা দিয়েছেন। হাইকোর্টের উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করার পর আদালত হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন। আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হয়।

সংশোধিত আইন মোতাবেক গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১২ এর দফা (৩খ) অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য ও কোন কোন তথ্যের স্বপক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাবলী ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। হলফনামা প্রচারের সুবিধার্থে প্রার্থীদের নিকট থেকে হলফনামার মূল কপি ছাড়াও আরও দুটি ফটোকপি অর্থাৎ মূলকপিসহ তিন কপি নিতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রার্থীদের প্রদান করতে হবে যেসব তথ্য

প্রার্থীদেরকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত হলফনামার মাধ্যমে নিম্নে বর্ণিত তথ্যাদি প্রদান করতে হবে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থী কর্তৃক অর্জিত সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটসহ উত্তীর্ণ পরীক্ষার নাম এ ঘর খালি রাখা যাবে না, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলে নিরক্ষর, স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন, অষ্টম শ্রেণী পাশ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। তবে বাস্তবে এমনও হতে পারে যে, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট কোনো প্রার্থীর কাছে নেই। সে ক্ষেত্রে সর্বশেষ যোগ্যতা এমএ, তবে সময় স্বল্পতায় তা সংগ্রহ করতে না পারায়, বিএ পাশের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হলো- এভাবেও তথ্য দেয়া যেতে পারে।
  • ফৌজদারী মামলা: বর্তমানে প্রার্থী কোনো ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত আছেন কিনা, অতীতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন ফৌজদারী মামলার রেকর্ড আছে কিনা, থাকলে তার রায় কি ছিল? (প্রার্থী সকল তথ্য প্রদান করবেন এটাই প্রত্যাশিত)। তবে অতীতের মামলা সংক্রান্ত, বিশেষ করে অনেক পুরোনো হলে, বিশদ তথ্য প্রার্থীর কাছে সঙ্গত কারণেই নাও থাকতে পারে। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়ে গেছে বা খালাস পেয়েছেন এমন ক্ষেত্রে বিশদ তথ্য না দিতে পারার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। তবে দণ্ডিত হয়ে থাকলে এবং তা উল্লেখ না করার বিষয় প্রমাণিত হলে, মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
  • ব্যবসা বা পেশার বিবরণী: দেশে ও বিদেশে প্রার্থীর সম্ভাব্য আয়ের উৎসসমূহ, দেশে ও বিদেশে প্রার্থীর নিজের বা তার ওপর নির্ভরশীলদের পরিসম্পদ ও দায় এর বিবরণী। উল্লেখ্য যে, যদি কোনো প্রার্থী আয়কর দাতা হন এবং তিনি তার রিটার্ন ও সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন, তবে এ ঘরে সে তথ্য উল্লেখ করে, বিস্তারিত বিবরণ না দিলেও গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দেয়া সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ থাকে। আয়কর রিটার্নের কপি গেজেটেড কর্মকর্তা/আয়কর আইনজীবীর মাধ্যমে প্রত্যয়ন করলেও গ্রহণযোগ্য হবে।
  • পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি: অতীতে প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকলে, নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং উক্ত প্রতিশ্রুতির কতগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়েছিল, এ সংক্রান্ত তথ্যাদি (অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলেই কেবল এটি প্রযোজ্য হবে)। কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকলে ‘প্রতিশ্রুতি নেই’ অথবা ‘অর্জন নেই’ ইত্যাদি লেখা হলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে।
  • ঋণের পরিমাণ: কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে প্রার্থী কর্তৃক একক বা যৌথভাবে বা প্রার্থীর উপর নির্ভরশীল সদস্য কর্তৃক গৃহীত ঋণের পরিমাণ অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার কারণে উক্ত সকল প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত ঋণের পরিমাণ।
  • আয়কর রিটার্ন: আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) এর ধারা ১৬৬ এর অধীন দাখিলকৃত রিটার্নের প্রত্যয়িত অনুলিপি এবং উক্ত আইনের ধারা ২৬৪ এর বিধান অনুসারে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।

হলফনামা ও জামানতের বিধান

উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসারে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত নমুনা হলফনামা অনুযায়ী ৩০০/- (তিনশত) টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প অথবা কোর্ট ফি এর মাধ্যমে হলফনামা প্রস্তুতপূর্বক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। জামানত: মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক নগদ ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা জামানত বাবদ জমা দিতে হবে অথবা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা কোনো সরকারি ট্রেজারি বা সাব ট্রেজারিতে জামানতের অর্থ ১০৯০৩০২১০১৪৪৩-৮১১৩৫০১ কোডে জমা প্রদানের রসিদ সংযুক্ত করতে হবে।

এই নির্দেশনা প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটারদের মধ্যে প্রচার করা হবে এবং যেকোনো ভুল বা গোপনীয়তা মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।