মোহাম্মদপুরে পুলিশের ব্যাপক ব্লকরেইড, অর্ধশত অপরাধী দলের তৎপরতা নিয়ে অভিযান
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশ একটি ব্যাপক ব্লকরেইড অভিযান শুরু করেছে, যা আজ রোববার রাত ৮টা থেকে চালু হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান প্রথম আলোকে জানান, পুরো মোহাম্মদপুর এলাকায় এই ব্লকরেইড শুরু হয়েছে এবং কোনো এলাকা এ থেকে বাদ যাবে না। অভিযানটি অন্তত রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি
মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণতা নিয়ে আজ রোববার প্রথম আলোতে ‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার সিটি অব গড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, খুন, দখল, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ এই এলাকায় চার দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। সময়ের সাথে সাথে অপরাধের ধরন বদলেছে এবং নতুন নতুন অপরাধী দল তৈরি হয়েছে, যাদের তৎপরতা আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় বিদ্যমান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুসারে, মোহাম্মদপুরে বর্তমানে অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে বড় দল রয়েছে ১৭টি। প্রতিটি দলে ১৫ থেকে ২০ জন করে অপরাধী সদস্য রয়েছে, যা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
পূর্বের অভিযান ও গ্রেপ্তার
এই ব্লকরেইডের আগে, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এলাকায় আজ রোববার দিনভর একটি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা এলাকার ১৬ জন, শেরেবাংলা নগর থানার ৭ জন, আদাবর থানার ৫ জন, তেজগাঁও থানার ২ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ৪ জন এবং হাতিরঝিল থানা এলাকার ২০ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, রোববার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো:
- মো. হোসেন ওরফে শাকিল (২৫ বছর)
- মো. মিলন (৩৪ বছর)
- মোছা. রতনা (৩৫ বছর)
- মো. আবুল হাসনাত রিয়াত (১৮ বছর)
- মো. গোলাম দস্তগীর তিতাস (৪৫ বছর)
- তানভীর ইসলাম (১৪ বছর)
- মো. ইমরান হোসেন ওরফে মারুফ (২২ বছর)
মোট ৫৪ জনের এই তালিকায় বয়স, লিঙ্গ ও এলাকা ভিত্তিতে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়, যা অপরাধের বিস্তৃত পরিসরকে নির্দেশ করে।
আদালতে প্রেরণ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
গ্রেপ্তারকৃত সকল ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই অভিযানটি মোহাম্মদপুরের অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষত এলাকার দীর্ঘদিনের অপরাধপ্রবণতা ও অর্ধশত অপরাধী দলের তৎপরতা মোকাবিলায়। পুলিশের এই ব্লকরেইড চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতেও অনুরূপ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন, আশা করছেন যে এটি এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, অপরাধ দমনে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।



