প্রধানমন্ত্রীকে 'কুলাঙ্গার' বলায় ক্ষমা চাইলেন জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান
প্রধানমন্ত্রীকে 'কুলাঙ্গার' বলায় ক্ষমা চাইলেন রাশেদ প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে কটাক্ষ করার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। শনিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।

কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ নিয়ে বিতর্ক

রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ধারণা, বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ ঠিকমতো উপলব্ধি করতে পারেন নাই।’ তিনি শব্দটির ব্যুৎপত্তি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ: কুল (বংশ) + অঙ্গার (কলঙ্ক) = বংশের কলঙ্ক। কুলাঙ্গার হলো এমন ব্যক্তি যার কুকর্মের ফলে তার বংশ কলঙ্কিত বা অপমানিত হয়।’

তিনি দাবি করেন, সম্ভবত এই শব্দের অর্থ না বোঝার কারণেই বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘যেহেতু বিএনপি কর্মীরা ‘কুলাঙ্গার’ শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন, তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতে শব্দটি ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি

জাগপার এই মুখপাত্র ভবিষ্যতে আর ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি, কিন্তু অতীত থেকে ব্যবহার করে আসা আমার বক্তব্য একই থাকবে।’

রাশেদ প্রধান জানান, গত ১৫ এপ্রিল এক আলোচনা সভায় তার দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই ধারণা পুনরাবৃত্তি করেছিলেন, কিন্তু শুধুমাত্র ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি যোগ করায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি— শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নাই। তারেক রহমান তার পিতা-মাতার আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আইনি পদক্ষেপের হুমকি

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান আরও অভিযোগ করেন যে তাকে বিব্রত করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার পিএস জনি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তাকে কোনো মামলা দিলে আমি আইনিভাবে মোকাবিলা করব।’

তিনি তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারেরও অভিযোগ করেন। রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনো সরকারের আমলে তার নামে এ ধরনের কোনো অপবাদ কেউ দেয় নাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকেও রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।’

সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ প্রধান বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন মব কালচার বন্ধ। তারেক রহমানও লন্ডনে থাকা অবস্থায় নিজের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করে বলেছিলেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।’

তিনি এই ঘটনায় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সে বিষয়ে অপেক্ষা করবেন বলে জানান। রাশেদ প্রধান জোর দিয়ে বলেন যে তার বক্তব্য ১১ দলীয় জোটের নয়, বরং তার ব্যক্তিগত মতামত।

এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে, যেখানে ভাষার ব্যবহার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে আলোচনা চলছে। রাশেদ প্রধানের ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও তার মূল বক্তব্যের পরিবর্তন না হওয়ায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।