ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্নে প্রকৌশলী লাঞ্ছিত, তীব্র প্রতিক্রিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ধাওয়া ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপ্পল বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৌশলী অনিয়ম দেখলে কাজ বন্ধ করার অধিকার রাখেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনও অসংগতি থাকলে তা দাপ্তরিকভাবে সমাধান করা উচিত, শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, অন্যায়কারী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জেলার নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি নিহার রঞ্জন সরকার বলেন, এটি শুধু ন্যাক্কারজনক নয়, আইনবিরোধীও। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এ ধরনের ঘটনায় প্রশ্রয় দিলে মাঠপর্যায়ে সরকারি কাজ তদারকিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি আব্দুর নূর বলেন, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে কোনো মতবিরোধ থাকলে তা দাপ্তরিকভাবে সমাধান করা উচিত, কিন্তু এভাবে ধাওয়া ও লাঞ্ছনা ফৌজদারি অপরাধ।
ঘটনার বিবরণ ও পরিণতি
উল্লেখ্য, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছিল। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সোমবার ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ও স্থানীয় প্রকৌশলীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা মো. তারিকুল ইসলাম কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার লোকমান হোসেন তাকে সবার সামনে ধাওয়া ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং অপরাধীরা উৎসাহিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যক্রমে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে।



