আইসিটি মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা: হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারা হয়নি, কেবল টিয়ার শেল ব্যবহার
আইসিটি মামলায় আসামিপক্ষ: হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারা হয়নি

আইসিটি মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি: হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারা হয়নি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারার কথা ছিল বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

যুক্তিতর্কে কী বলা হয়েছে?

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ প্রথম আলোকে জানান, যুক্তিতর্কে তারা বলেছেন যে হাসানুল হক ইনু এবং শেখ হাসিনার কথোপকথনে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা বা উৎসাহ প্রদানের কোনো বক্তব্য নেই। বরং শেখ হাসিনা সেই আলোচনায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'আমি কোনো ক্যাজুয়ালটি চাই না।' এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে আন্দোলনকারীদের হত্যা বা নির্যাতনের কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি।

আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, র‍্যাব ও পুলিশপ্রধান জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে নিশ্চিত করেছে যে র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি বা বোমা মারা হয়নি। বরং, ওই সময়ে রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল, যেখানে সেনাবাহিনীও প্রবেশ করতে পারছিল না। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বর্তমান অবস্থা

এই মামলায় হাসানুল হক ইনু একমাত্র আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আজকের যুক্তিতর্কে মামলার আটটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম চারটি অভিযোগের ওপর আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন, যাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. আবুল হাসান ও সিফাত মাহমুদ।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কথোপকথনের কোথাও আন্দোলনকারীদের হত্যা বা নির্যাতন করতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা বা বক্তব্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা হাসানুল হক ইনু দেননি। এই যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তারা মামলার অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।