শার্লিজ থেরনের সতর্কবার্তা: এআই অভিনেতাদের কাজ করবে, কিন্তু লাইভ পারফরম্যান্স অদ্বিতীয়
শার্লিজ থেরন: এআই অভিনেতাদের কাজ করবে, লাইভ পারফরম্যান্স নয়

শার্লিজ থেরনের সতর্কবার্তা: এআই অভিনেতাদের কাজ করবে, কিন্তু লাইভ পারফরম্যান্স অদ্বিতীয়

হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, কিন্তু সম্প্রতি অভিনেত্রী শার্লিজ থেরন এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামী দশ বছরে এআই হয়তো অনেক অভিনেতার কাজই করতে পারবে, এমনকি টিমোথি শ্যালামের মতো তারকার ভূমিকাও এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনার বিকল্প কখনোই হতে পারবে না।

টিমোথি শ্যালামের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া

শার্লিজ থেরনের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে টিমোথি শ্যালামের একটি বক্তব্য। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই হলিউড অভিনেতা বলেছিলেন, অপেরা বা ব্যালেকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই মাধ্যমের শিল্পীরা, এবং তিনি চান না সিনেমার অবস্থাও অপেরা বা ব্যালের মতো হোক। শ্যালামে আরও বলেন, সার্বিকভাবে সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে, এবং তাঁর ভাষায়, মানুষ যদি দেখতে চায়, তারা নিজেরাই আসবে।

এই বক্তব্যেই আপত্তি জানান শার্লিজ থেরন। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আলটপকা মন্তব্যই নয়, বরং দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম অপেরা ও ব্যালে সম্পর্কে একধরনের অবমূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পকে বরং আরও বেশি করে তুলে ধরা দরকার, কারণ এগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে এবং তাদের মূল্য অপরিসীম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাচের কঠিন অনুশীলনের অভিজ্ঞতা

বিশেষভাবে নাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শার্লিজ থেরন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, নাচ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনুশীলনগুলোর একটি ছিল। তাঁর মতে, নৃত্যশিল্পীরা সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’, যাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের শরীরকে এমন এক সীমায় নিয়ে যান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কঠোর প্রশিক্ষণের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, রক্তাক্ত পা, না শুকানো ক্ষত এবং প্রতিদিন একই রকম কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নৃত্যশিল্পীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাঁর কথায়, আপনি ছুটি পান না। জুতার ভেতর রক্ত ঝরছে, তবু থামা যাবে না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য, যা যন্ত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব।

এআইয়ের প্রভাব ও লাইভ পারফরম্যান্সের স্বকীয়তা

এই প্রেক্ষাপটেই আসে এআই প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবদেহের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লাইভ পারফরম্যান্স—বিশেষ করে ব্যালে বা অপেরা—তাদের স্বকীয়তা হারাবে না। কারণ, সেখানে শুধু দক্ষতা নয়, থাকে আবেগ, উপস্থিতি এবং মুহূর্তের সত্যতা, যা যন্ত্র দিয়ে পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।

তাঁর বক্তব্যে একধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি অভিনেতাদের কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সব শিল্পমাধ্যমকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়, এবং লাইভ পারফরম্যান্সের অনন্যতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

শার্লিজ থেরনের এই মন্তব্য হলিউডে এআই নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন দিক যোগ করেছে, যা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে আরও গভীর করছে।