সোহরাওয়ার্দীতে মাদকবিরোধী অভিযানে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ
সোহরাওয়ার্দীতে মাদকবিরোধী অভিযানে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী মারধরের শিকার

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী মারধরের শিকার

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের দৃশ্য ধারণ ও সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য এসে তাদের কাজে বাধা দেন। নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন বলেন, “বাংলানিউজের সাংবাদিক তোফায়েলকে আগে মারছে। পরে আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মেরেছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের মারধরে আহত তোফায়েল আহমেদ মাথা ও পিঠে আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

অভিযানে আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনও রয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “এটি মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযান। সোমবারের অভিযানে ৬০-৭০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। মোট ৭-৮ জনকে আটক করা হয়েছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিসি মাসুদের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় পুলিশের ৮-১০ জনের একটি দল গাঁজা সেবনরত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এক কনস্টেবলের চোখের ওপরে আঘাত লাগে এবং গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকদের গলায় কোনও প্রেস পরিচয়পত্র ছিল না। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ

তবে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল। ডিসি মাসুদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীকে পরে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া রয়েছে।

ঘটনার পর তিনি আহত সাংবাদিককে হাসপাতালে দেখতে যান। এ সময় তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমালোচনা ও দাবি

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।