পাকিস্তানের জোরালো আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই সমাপ্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষকেই বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য।
আলোচনা ব্যর্থ হলেও স্থিতিশীলতা রক্ষা জরুরি
দুই দেশের মধ্যকার সংলাপ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও চলমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন ইসহাক দার। তিনি তার বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়া বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 'উভয় পক্ষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বজায় রাখুক,' বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামাবাদ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবুও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাটাই একটি বড় প্রাপ্তি বলে পাকিস্তান মনে করছে। পাকিস্তান শুরু থেকেই এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।
পাকিস্তানের অব্যাহত ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক চাপ
ইসহাক দার পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজতর করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য যে, ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর মার্কিন প্রতিনিধি দল কোনো চুক্তি ছাড়াই ত্যাগ করার পর এই প্রতিক্রিয়া আসলো। শান্তি আলোচনার এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকেও ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আহ্বান মূলত সেই বৈশ্বিক উদ্বেগ ও আশঙ্কারই প্রতিফলন।
এখন দেখার বিষয় যে, তেহরান ও ওয়াশিংটন আগামী দিনগুলোতে এই 'অপরিহার্য' যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে কতটা সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে এবং পাকিস্তানের পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল ও ফলপ্রসূ হয়। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



