ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের আশা ম্লান, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের আশা ম্লান, অর্থনীতিতে চাপ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। চলমান সংঘাতে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা এখন আর জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী মহলের একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ব্যাপক বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানে এখন পর্যন্ত সরকারবিরোধী বড় কোনো গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা বনাম বাস্তবতা

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করেছিল, সামরিক চাপ তৈরি হলে ইরানের জনগণ রাস্তায় নেমে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করবে। কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও অনেক ইরানি সংকটকালে সরকারের পাশেই অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের শুরুতে বলেছিলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানি জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করবে। পরবর্তী এক বিবৃতিতেও তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানের জনগণকে ‘স্বৈরাচারী শাসন’ থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে তাৎক্ষণিক কোনো গণআন্দোলনের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং যুদ্ধের প্রভাব এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাস্তবে যুদ্ধের অবসান এখনো খুব কাছাকাছি নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচনায় থাকা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে শুরুতে কড়া মন্তব্য করলেও পরে এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে— যে কারণে এখন যুদ্ধের দ্রুত অবসান নিয়েই বেশি চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিম্নলিখিত চাপগুলো দেখা দিতে পারে:

  • জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা বৃদ্ধি
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে বিঘ্ন সৃষ্টি
  • মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়ানো
  • বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

সামগ্রিকভাবে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক সংঘাতই নয়, বরং এটি এখন বৈশ্বিক স্তরে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য যুদ্ধের দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।