মুজিবনগর দিবসে প্রশাসনের কোনও আয়োজন নেই, নির্দেশনার অপেক্ষায় জেলা প্রশাসক
আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এই বৈদ্যনাথতলাকে 'মুজিবনগর' নামকরণ করা হয়। একাত্তরের এই দিনে সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়, যা বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছিল যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনও বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সরকার ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত জনযুদ্ধ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আয়োজন নেই
এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে এবার মুজিবনগরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আয়োজন নেই বলে জানা গেছে। কেবল রুটিনমাফিক কিছু ছোটখাটো কর্মসূচি ছাড়া বড় কোনও রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, 'মন্ত্রণালয় থেকে এখনও মুজিবনগর দিবস সম্পর্কে কোনও নির্দেশনা আসেনি। আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।' তার এই বক্তব্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিবসটি উদযাপনে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় সচেতনমহলের প্রতিক্রিয়া
আজকের দিনটির গুরুত্বের কথা তুলে ধরে স্থানীয় সচেতনমহল বলছেন, মুজিবনগর দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৭ এপ্রিলের সেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানই বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছিল যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনও বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সরকার ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত জনযুদ্ধ। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ২৩টি স্তম্ভ আজও যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয় শোষণ আর সংগ্রামের ইতিহাস। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই দিনটি জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা উচিত, যা প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে মনে হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক 'মুজিবনগর' নামকরণ করা হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে সহায়তা করেছিল এবং সরকার পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত এই দিনে মুজিবনগরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে এবার সেগুলোও সীমিত পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, যা দিবসটির গুরুত্বকে কিছুটা ম্লান করে দিচ্ছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে আজও দর্শনার্থীদের আগমন থাকলেও, তা পূর্বের বছরের তুলনায় কম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।



