সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান অভিযুক্ত শান্ত (২৫) কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। বুধবার (৩ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের কাজিপুর মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শান্তের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
এদিকে মামলা দায়েরের পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মুখে তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ শহরের কাজিপুর মোড় এলাকায় র্যাব-১২-এর একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে শান্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাব-১২-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের স্বস্তি
দীর্ঘ দিন পর অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন তারা এই মামলার দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



