জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য গতকাল রবিবার (৩ মে) শপথ নিয়েছেন। আইনি জটিলতায় বাকি এনসিপির একজনের শপথ বাকি আছে। তবে সবমিলিয়ে সংরক্ষিত আসনের এই ৫০ সংসদ সদস্য আগামী অধিবেশন থেকেই জাতীয় সংসদের নিয়মিত কাজে যোগ দেবেন বলেই ধরে নেওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, এই নারী এমপিদের কাজ কী, আর সাধারণ এমপিদের সঙ্গে এই এমপিদের পার্থক্যই বা কতটুকু?
কীভাবে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত আসনের এমপিরা
সারা দেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত হয়। পরে এই প্রতিনিধিদের পরোক্ষ ভোটাভুটির মাধ্যমেই ৫০টি সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়া দলীয় আসনের সংখ্যার ওপরই নির্ভর করে কোন দল কতটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবেন।
সেই হিসাবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে ৫০টির মধ্যে ৩৬টি আসন পেয়েছে বিএনপি। আর জামায়াত ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পেয়েছে ১৩টি আসন। বাকি একটি আসনে প্রার্থী পেয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।
নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে পার্থক্য কী
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সাংবিধানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে অন্যদের মতোই সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন সংরক্ষিত আসনের এমপিরা। সংসদে বিল উত্থাপন, বাজেট আলোচনা এবং ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা যেমন তাদের রয়েছে তেমনি বেতন-ভাতা, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা এবং প্লট বরাদ্দসহ সব অধিকার একজন সাধারণ সংসদ সদস্যের মতোই সমানভাবে পান সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা।
সংরক্ষিত আসনের এমপিদের কাজ কী
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি বা নির্দিষ্ট দায়িত্ব আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। সংবিধানে শুধু সংরক্ষিত আসনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এসব আসনের সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
সংবিধানে আলাদাভাবে দায়িত্ব নির্ধারণ না থাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
গতকাল রবিবার (৩ মে) রাত ৯টার দিকে সংসদ ভবনে সংরক্ষিত আসনের এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শপথ অনুষ্ঠানের পর এ বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং সংবিধানেও তা নির্ধারণ করা হয়নি। তারা মূলত জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন, সংসদীয় কার্যক্রমে অবদান রাখবেন এবং জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করবেন।’
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ তদারকি এবং নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।



