বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন— এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের বিষয়টিও ভোলা যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন অনেকে বলে—‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি।’ এই বিভাজন নিরসনের দায়িত্ব বড় দলগুলোর ছিল।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা কাম্য নয়। ‘আমরা এখনও কেন এই সমাধান করতে পারিনি? এর দায়ভার কে নেবে— বিএনপি, না যারা দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে?
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের ওই বিতর্ক একপাশে রেখে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং জনগণকে বিভক্ত করার রাজনীতি পরিহার করতে হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, এই প্রজন্ম যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনও সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই।
তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলো, মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য-মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা বলেছি। কোথায় পার্থক্য, কোথায় আলাদা এবং কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট– এটা অহতুক তর্ক। আমরা কেউ বলিনি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের থেকে বড় বা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ৯০ এর থেকে বড় বা ৯০ এর থেকে ছোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক বিশেষ ঘটনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ এক বিশেষ ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার বিষয়ে আমরা আনকম্প্রমাইজেবল, এটা নিয়ে কোনও বিতর্কের সুযোগ নাই।



