মে দিবসের আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ গণমাধ্যম সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেয় না। অথচ ওয়েজ বোর্ড মেনে বেতন দেওয়া হয়, এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন নেয় তারা। এই মালিকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়নকে সক্রিয় হতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত মহান মে দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
শ্রমিকের অবদান ও বঞ্চনা
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সভ্যতার বিকাশে শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাঁরাই পান না শ্রমের মর্যাদা। অবহেলায় কাটে তাঁদের দিন। প্রাপ্য মর্যাদাও জোটে না কখনো কখনো। বাংলাদেশে এ বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের পরিবারের পাশে কোনো মালিক দাঁড়াননি। কিন্তু এমনটি কেন হবে?
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, যেকোনো শ্রমিক কিংবা একজন কর্মজীবীর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটছে অনেক ক্ষেত্রে। একেকটি ঘটনার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলোর তরফে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সব ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এর প্রতিফলন যথাযথভাবে ঘটেনি।
পত্রিকা পুনরায় চালুর দাবি
যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা, আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য শেখ হাসিনা সরকার যেমন দায়ী, আমাদের সাংবাদিক নেতারাও কম দায়ী নন। এই চারটি পত্রিকা পুনরায় চালু করতে হবে। এতে অন্তত ১৫ শ সাংবাদিক চাকরির সুযোগ পাবেন।
সংবাদমাধ্যমে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না।
বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন সাংবাদিক এ কে এম মহসিন, খায়রুল বাশার, এরফানুল হক, আবু বকর, বাবুল তালুকদার, শাহজান সাজু, রফিক মুহাম্মদ, মোদাব্বের হোসেন, দিদারুল আলম, শাহনাজ পলি, খন্দকার আলমগীর, এম মোশাররফ হোসেন, তালুকদার রুমি, আবদুল্লাহ মজুমদার, নিজাম উদ্দিন, রাজু আহমেদ প্রমুখ।



