নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের চার ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ছিনতাইয়ের অভিযোগ ও তদন্ত
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকার সিফাত (২৮), শাহারিয়া তানভীর (২৯) ও আবু সুফিয়ান (২৯) বন্দর থানায় তাঁদের মুঠোফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় বন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলাম ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করতে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. সোহেল রানাকে মুঠোফোনে জানান।
রাত সোয়া দুইটার দিকে অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করতে এএসআই সোহেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় গুলু মিয়ার বাড়িতে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুষ্কৃতকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা কনস্টেবল ফয়সালকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁর ডান হাতে ও পেটে জখম করে এবং তাঁর হাতে থাকা শটগান ছিনিয়ে নেয়। এ সময় এএসআই সোহেলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে তারা।
আহত পুলিশ উদ্ধার ও শটগান উদ্ধার
খবর পেয়ে বন্দর থানা ও ফাঁড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। কনস্টেবল ফয়সালকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে বন্দর থানার পুরান চৌধুরীবাড়ির হাবিবনগর এলাকার গুলু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটে আমির হোসেনের টিনশেড ঘরের পেছনে থেকে ছিনতাই হওয়া ওই শটগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ওই এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।



