জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁকে থাপ্পড় মারা ছাত্রী সাদিয়া সুলতানাকে সাময়িক বহিষ্কারের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতারণা করেছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার জর্জিস আনোয়ারের পদত্যাগপত্র জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
পদত্যাগের কারণ
জর্জিস আনোয়ার বলেন, ক্যাম্পাসে আসা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ, ক্যাম্পাসে এলেই ওই ঘটনার কথা মাথায় ঘোরে। এই মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তিনি জকসু ভিপি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিমুখী অবস্থানকে দায়ী করে জর্জিস বলেন, তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযুক্ত ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এমনকি উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। কিন্তু পরদিনই ওই অভিযুক্তকে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
ক্ষোভ প্রকাশ করে জর্জিস বলেন, ‘সাময়িক বহিষ্কারের পর কেউ যদি ক্লাস-পরীক্ষা সবই করতে পারে, তবে সেটা কেমন বহিষ্কার? এটা কি শুধু আমাদের আইওয়াশ (প্রতারণা) করা হলো?’ তবে ক্রীড়া সম্পাদকের পদত্যাগপত্র জমা পড়লেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জর্জিস আনোয়ার ভিপি বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেটি এখনো গ্রহণ করা হয়নি। অভিমান থেকেই তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কার্যকরী পরিষদে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খেলায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেন ওই ছাত্রী। এরপর ৩ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। তবে বর্তমানে এই ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



