হাইকোর্ট জনসাধারণ যাতে কার্যক্রম দেখতে পায়—এমন মনিটরসহ (পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর) সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে হাই ডেফিনেশন (এইচডি) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল দেন।
রুলের বিস্তারিত
সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে পাবলিক ডিসপ্লে মনিটরসহ হাই ডেফিনেশন (এইচডি) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে অবিলম্বে ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনসচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটের প্রেক্ষাপট
সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে পাবলিক ডিসপ্লে মনিটরসহ এইচডি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সারওয়ার গতকাল রোববার রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
পরে আইনজীবী মো. আল মামুন সারওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, নিজ জেলার সাবরেজিস্ট্রার অফিসে পারিবারিক কাজে গিয়ে অবৈধ দাবি ও দালালদের উপদ্রব দেখতে পান। এমনকি কর্মকর্তাও সঠিক সময়ে অফিসে আসেন না। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুসারে জনগণের সেবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। পরে মক্কেলের প্রয়োজনে সাভার সাবরেজিস্ট্রার অফিসে যাওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং মনিটরগুলো পাবলিক প্লেসে বসানো হয়েছে। ভূমিকেন্দ্রিক বিষয়াদি নিয়ে অনিয়ম–দুর্নীতি রোধে ও জবাবদিহিতায় ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিতে নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হলে হাইকোর্ট ওই রুল দেন।
প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
এই রুলের মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর ও এইচডি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে সাধারণ মানুষ তাদের কাজের অগ্রগতি দেখতে পাবেন এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে। আইনজীবী আল মামুন সারওয়ার বলেন, এই উদ্যোগ দুর্নীতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



