দুদকের আবেদনে আদালতের আদেশ: ফরহাদ হোসেন, স্ত্রী ও আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তার স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এটিএম বিভাগের কার্টোগ্রাফার মো. আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) এই আদেশ জারি করা হয়, যা দুদকের তিনটি পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে।
ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নথি জব্দের আবেদন
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ছয় কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা এবং মোট উত্তোলনের পরিমাণ ছয় কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এই জমা ও উত্তোলনকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়।
সৈয়দা মোনালিসা ইসলামের ক্ষেত্রে অভিযোগের বিবরণ
সৈয়দা মোনালিসা ইসলামের বিরুদ্ধে তার স্বামী ফরহাদ হোসেনের সহযোগিতায় ৯৪ কোটি পাঁচ লাখ ৯৩২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের মামলায় এই অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং দণ্ডবিধি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের প্রেক্ষাপট
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদের আবেদনে বলা হয়, আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে এক কোটি ১০ লাখ ২৪০ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার পাশাপাশি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ১৫৫ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদের তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আদালতকে অবহিত করা হয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফরহাদ হোসেন, সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম এবং আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আয়কর নথি জব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



