জুলাই আন্দোলন হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের বহিষ্কৃত কর্মকর্তার তিন দিনের রিমান্ড
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হোসেন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ডিজিএফআইয়ের বহিষ্কৃত কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। এ নিয়ে তাকে সাত দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো, যা মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।
তদন্তে তথ্য গোপন করার অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছয় দফায় ২১ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি মামলার ঘটনার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য গোপন রেখে বিছিন্ন কিছু তথ্য দিয়েছে, যার ফলে তাকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার সময় জড়িত আসামিদের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডে প্রকৃতপক্ষে কে কে জড়িত ছিল তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। তবে বিচারক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
গত ৩০ মার্চ ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর আসামিকে ষষ্ঠ দফায় রিমান্ডে পাঠানো হয়, যা মামলার জটিলতা বাড়িয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়।
আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে, যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন, যা এখনও চলমান রয়েছে।



