গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি বিএনপির
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী গুমের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
নয়াপল্টনে আলোচনা সভায় বক্তব্য
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী এবং গাড়ি চালকের সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে রিজভী এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
রিজভী বলেন, “গুমের বিরুদ্ধে শক্ত আইন চায় দেশের মানুষ। তাই ফাঁকফোকরগুলো পূরণ করে এ আইনটি শক্তিশালী করা হোক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী এখনও নিখোঁজ। তাদের সন্ধান বের করতে হবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের শনাক্তের আহ্বান
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, “যেসব কর্মকর্তা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে আছেন। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য বের করে আনতে হবে। জনগণ জানতে চায়, কীভাবে, কোথায় এবং কেন এসব গুম হয়েছে।” তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।”
সুসময়ের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে
দেশ একটি দুঃসময় অতিক্রম করে এখন সুসময়ের দিকে এগুচ্ছে দাবি করে রিজভী বলেন, “তবে, এই সুসময় শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং কোনও সাধারণ মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাবে।” ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করাকেও তিনি সুসময়ের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও বিদ্যমান। তবুও এখন অন্তত গ্রেফতার, গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় কমেছে—এটাই সুসময়ের লক্ষণ।” গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এতে অনেক ঘাটতি ও ফাঁকফোকর রয়েছে। দেশের জনগণ চায় সে ফাঁকফোকর ঘাটতি পূরণ করে একটি শক্তিশালী আইন করা হোক।”
ভবিষ্যতে গুম রোধে শক্ত আইনের আহ্বান
সরকারের প্রতি একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, “যাতে ভবিষ্যতে কোনও সরকার গুমের মতো অমানবিক পন্থা ব্যবহার করতে না পারে।” তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর সরকার তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ নানা উদ্যোগ এর প্রমাণ।”
রিজভীর বক্তব্যে গুমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।



