জুলাই আন্দোলনে মিরপুর থানার বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে (৭২) ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (৪ মে) বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে অন্য আসামিরা আন্দোলন দমনের উদ্দেশে গুলি চালায়। এতে বিপ্লব শেখ প্রাণ হারান। প্রাথমিক তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, সে তথ্য উদঘাটনের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এই আসামি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি এক-এগারোর কুশীলব ছিলেন। এই আসামি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করে দেশত্যাগে বাধ্য করায়। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই আসামি সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এবং কারা অস্ত্র ও অর্থ জোগান দিয়েছেন তা বের করার জন্য সর্বোচ্চ রিমান্ডের জোর দাবি করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী উম্মে হাবিবা রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, আসামি এই মামলার এজাহারে নাম নেই। তিনি সাবেক একজন এমপি এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। এসব বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন।
আদালতের আদেশ
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিরপুর-১০ এলাকায় চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিপ্লব শেখ গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১ জুলাই ২০২৫ সালে তার বাবা পারভেজ শেখ মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে একই মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, পৃথক একটি মামলায় টানা ৬ দফায় ২৪ দিনের রিমান্ড নেওয়া হয়েছে।



