জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রীর আশ্বাস: মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে না
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদকে সম্বোধন করে মন্ত্রী জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব সীমিত থাকার কারণ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
স্বাধীন সাংসদের প্রশ্নের জবাব
স্বাধীন সাংসদ রুমিন ফারহানা ইসরাইল-ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে একটি পরিপূরক প্রশ্ন করলে মন্ত্রী জবাব দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক প্রবণতার তুলনায় বাংলাদেশে মূল্য সমন্বয় তুলনামূলকভাবে মধ্যম পর্যায়ের।
মন্ত্রীর যুক্তি: জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির খবর উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু উৎপাদন ও পরিবহনে এর গাণিতিক প্রভাব নগণ্য। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন খাতে শক্তির ব্যয় সাধারণত মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭% থেকে ৮%। তাই ডিজেলের দাম ১৫% বৃদ্ধি—টাকা ১০০ থেকে টাকা ১১৫—এই ক্ষুদ্র শতাংশের একটি ভগ্নাংশকেই প্রভাবিত করে।
গাণিতিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চালাতে বা ১০,০০০ কেজি পণ্য বহনকারী ট্রাকের জন্য ৩০ লিটার ডিজেলে অতিরিক্ত টাকা ৪৫০ প্রয়োজন। কিন্তু একক ভিত্তিতে গণনা করলে এটি নগণ্য খরচ বৃদ্ধি, যা মুদ্রাস্ফীতির জন্য উল্লেখযোগ্য উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে না।
সরকারের নীতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
এছাড়াও, মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিয়ে বলেছেন, সরকারকে অস্থিরতা রোধ করতে মৌলিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশ বৈশ্বিক বাজার অনুসরণ করতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য ট্রিগার বাস্তবায়ন করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও “মিতব্যয়ী” ও “মধ্যম” পন্থা অবলম্বন করেছে।
নিয়ন্ত্রিত সীমার মধ্যে মূল্য সমন্বয় রাখার মাধ্যমে সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য তুলনীয় অর্থনীতিতে দেখা আরও চরম ওঠানামা থেকে রক্ষা করতে চায় বলে তিনি যোগ করেন।



