জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন
দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে অকটেন ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ হারে বেশি সরবরাহ করা হবে।
সরবরাহ বৃদ্ধির পেছনের কারণ
বিপিসির বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি তেলের চাহিদা বিবেচনায় ডিলার ও ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির অধীনস্থ কোম্পানিগুলোকে বর্ধিত হারে জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে দৈনিক ১৩ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ১৪২২ মেট্রিক টন অকটেন বিক্রি করা হবে। এই পদক্ষেপটি জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত শনিবার সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছিল। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ:
- ডিজেল: লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা
- অকটেন: লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা
- পেট্রোল: লিটারে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা
- কেরোসিন: লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা
এই মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, বিপিসির সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ভোক্তাদের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হলে বাজারে এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে এবং দামের ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জ্বালানি খাতের সংস্কার ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য বলে তারা মত দিয়েছেন।



