সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাদিয়া পাঠান পাপন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার নাদিয়া পাঠান পাপন। বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত তালিকায় তার নাম ৩২ নম্বরে স্থান পেয়েছে। এই মনোনয়নের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের জোয়ার বইছে।
নাদিয়া পাঠান পাপনের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত পরিচয়
নাদিয়া পাঠান পাপন বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সৈয়দা নাখলু আক্তারের কন্যা। তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা ও সংগ্রাম
২০০০ সাল থেকেই নাদিয়া পাঠান পাপন চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বারবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন।
নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই আমি বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছি। সব আন্দোলন ও সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে লড়াই করেছি এবং বারবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার আদর ও সাহচর্য পেয়েছি। যেহেতু দলের চরম দুঃসময়ে মাঠে-ময়দানে সক্রিয় ছিলাম, তাই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি সমাজের পিছিয়ে থাকা নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি জানি নারীদের কত রকম প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয় এবং আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" এই মনোনয়ন তাকে সেই লক্ষ্য পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই মনোনয়নকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে নাদিয়া পাঠান পাপন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও নারী অধিকারের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।



