কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, পারিবারিক কলহের অভিযোগ
ভৈরবে নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

ভৈরবে নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, পুলিশের তদন্ত চলছে

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় কালিকাপ্রসাদ এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর রেললাইনের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তি আলমগীর নামে পরিচিত, যিনি জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক কলহ ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা

আলমগীর হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ সরদারের ছেলে। গত বছরের আগস্টে তিনি ঢাকার একটি শাখা থেকে বদলি হয়ে ভৈরব শাখায় যোগদান করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি কালিকাপ্রসাদ এলাকার শিক্ষিকা তাসলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলমগীরের স্ত্রীর সঙ্গে কলহ চলছিল।

তাসলিমা আক্তার জানান, রোববার সকালে আলমগীর ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন, কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ব্যাংকে যোগাযোগ করেন। ব্যাংক থেকে জানানো হয়, তিনি সেদিন কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এছাড়া তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাশ শনাক্ত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

বুধবার কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাসলিমা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন। তিনি দাবি করেন, আলমগীরের সঙ্গে তার কলহ থাকলেও ওইদিন কোনো ঝগড়া হয়নি। নিহতের ভাই ওয়াহিদুজ্জামান শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ভৈরব থানায় এসে বলেন, "আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নেই। তিনি প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করলে আমাকে জানাতেন, কিন্তু আত্মহত্যা করতে পারেন না। আমার ধারণা, তাকে কেউ অপহরণ করে হত্যা করেছে। পুলিশের তদন্তে বিষয়টি উদঘাটন হতে পারে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা

ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ জানান, লাশের পাশে একটি বোতল পাওয়া গেছে, যা বিষের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশে এক পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানানো হচ্ছে।