সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগেও অনিশ্চয়তা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ, এমডি নিয়োগে অনিশ্চয়তা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগেও অনিশ্চয়তা

রাষ্ট্রমালিকানাধীন নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সোমবার (১৬ মার্চ) তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সরকার তাকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।

ব্যাংক একীভূতকরণের পটভূমি

তারল্য সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংক একীভূত করে এ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। দুর্বল এসব ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার এ সমন্বিত ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেয়।

মূলধন কাঠামো ও সরকারি বিনিয়োগ

সূত্র অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের শেয়ার থেকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে জটিলতা

এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে নানা প্রক্রিয়া শেষে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে বর্তমানে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক সংকটে থাকা একাধিক ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত এ নতুন ব্যাংকের সামনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে জটিলতা সেই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের এই শূন্যতা ব্যাংকের কার্যক্রম ও আস্থা পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপের সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।