ডোপিং নিষেধাজ্ঞায় মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ার সংকট
গত কিছুদিন ধরে ভালো সময় যাচ্ছিল না মাবিয়া আক্তার সীমান্তের। ডোপিং টেস্ট নিয়ে নেতিবাচক খবর শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে ভারোত্তোলন থেকে দূরে থাকতেই হচ্ছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
গতবছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে নেওয়া নমুনায় নিষিদ্ধ ডাইইউরেটিক্স পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ওয়াডা কোড অনুযায়ী তাকে নিষিদ্ধ করেছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রানার স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মাবিয়ার প্রতিক্রিয়া ও নির্দোষ দাবি
নিষিদ্ধের চিঠি হাতে পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “যে কারণে আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাতে আমার কোনও দোষ নেই। আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ নিয়েছি। আমার হাঁটু ফুলে গিয়েছিল। অলিম্পিকের ডাক্তার বলেছিল সমস্যা হবে না। এখানে আমার কী দোষ?” টানা দুই গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী এই ভারোত্তোলক বলেন, “আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে আগে কখনও এমন হয়নি। কোন ওষুধ খেতে হবে, তা তো অলিম্পিক থেকেই বলে দেওয়া হয়। এবারও ডাক্তার নিজেই বললেন সমস্যা হবে না। এখন আমার স্যাম্পল নাকি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। আসলে আমি বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে।”
আপিলের ঘোষণা ও চিকিৎসকের দায়
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন মাবিয়া। তিনি বলেন, “আমি আপিল করবো। লড়াই করবো। কারণ আমি নির্দোষ। এখানে আমার কোনও ভুল নেই। ভুল হলে অলিম্পিকের ডাক্তার শফিকের। তিনি আগে থেকেই আমাকে পছন্দ করেন না। তা না হলে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ার পর এমনটি কেন হবে? তখন যদি বলতেন, আজ আমার এই দশা হতো না। এখানে আমার দায় কোথায়?” অপরদিকে, পুরো ঘটনার দায় মাবিয়ার ওপরই দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বড় গেমসের আগে আমরা অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্ট করি। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ২৬ জনের নমুনা নেওয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জানতে পারি মাবিয়ার ফল পজিটিভ এসেছে। আমরা তাকে বিষয়টি জানাই এবং জানতে চাই কেন সে আগে আমাদের জানায়নি। সাধারণত কনসালট্যান্টদের প্রেসক্রিপশন আমরা যাচাই করে দিই—কোনটা নিষিদ্ধ, কোনটা খাওয়া যাবে। তার ভুল হয়েছে, সে আমাদের জানায়নি। আমাদের ফোন করলেই পারত। এমনকি টেস্টের সময়ও সে প্রেসক্রিপশন দেখায়নি।”
মাবিয়ার ক্যারিয়ার ও অর্জন
উল্লেখ্য, মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনে আসেন। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনা এনে দেন। ২০১৯ সালে নেপালের পোখারায় আবারও স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হন। কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি তুলে ষষ্ঠ হন। ২৬ বছর বয়সী এই দেশসেরা ভারোত্তোলককে এখন নতুন করে ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।



