পার্বত্য অঞ্চলে মারমাদের সাংগ্রাই জলোৎসব শুরু, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের উদ্বোধন
রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি জনপদে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিম্রং বৌদ্ধ বিহারে বর্ণিল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়, যা সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চলবে বলে জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিতি
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বুধবার দুপুরে কাপ্তাইয়ের চিম্রং বৌদ্ধ বিহারে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই পানি খেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উৎসবে হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে, যারা পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে মেতে ওঠেন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, "মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই ঘিরে এখানে সব ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলন ঘটেছে। এ দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন।"
উৎসবের পটভূমি ও কার্যক্রম
এর আগে ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল শেষ হয় চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু এবং অন্যান্য পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব। মারমা সম্প্রদায় পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে সাংগ্রাই জল উৎসব পালন করেন, যেখানে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে ফেলেন।
উৎসবের আয়োজনে নিম্নলিখিত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা
- মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন
- মারমা, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের নৃত্যের তালে জল নিক্ষেপ
সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে এবং সানুচিং মারমা ও সাচিং উ মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক অংশ নেন।
উৎসবের তাৎপর্য ও সম্প্রীতি
মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই জলোৎসব শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা প্রীতি-শুভেচ্ছা ও সম্প্রীতি বিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানান, যা পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
রাঙামাটির চিৎমরম ইউনিয়নের চিম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পার্বত্য জনপদের জীবনযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।



