নওগাঁ বন্ধুসভার বৈশাখ উদ্যাপন: হৈচৈ পার্কে গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক আড্ডা
বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, শিকড়ের টান ও সংস্কৃতির গভীর আবেগকে ধারণ করে নানা আয়োজনে ব্যতিক্রমী বৈশাখী আড্ডা করেছে নওগাঁ বন্ধুসভা। মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ শহরের হৈচৈ পার্কে গান, কবিতা, স্মৃতিচারণা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করেন সংগঠনের সদস্যরা।
উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বন্ধুরা গোল হয়ে বসে সমস্বরে পরিবেশন করেন লোকজ গান ও বৈশাখের কবিতা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আবহ, যেখানে মিশে ছিল বাংলার গ্রামীণ সুর, ঐতিহ্যের আবেশ এবং তরুণদের উচ্ছ্বাস। এই পরিবেশনা শুধু বিনোদন নয়, বরং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি প্রাণবন্ত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্মৃতিচারণা ও আলোচনার মাধ্যমে আবেগঘন মুহূর্ত
বৈশাখী স্মৃতিচারণা পর্বে বন্ধুরা নিজেদের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করে নেন, যা আড্ডাকে আরও প্রাণবন্ত ও আবেগঘন করে তোলে। সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘উৎসব মানেই জাঁকজমক নয়; বরং শিকড়ের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ। এই আড্ডার মাধ্যমে আমরা সেই বন্ধন ও সাংস্কৃতিক সংহতিকেই উদ্যাপন করতে চেয়েছি, যা আমাদের আগামীর মানবিক পথচলায় প্রেরণা জোগাবে।’
উপস্থিত ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের ভূমিকা
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও দৈনিক বরেন্দ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চন্দন কুমার দেব, প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি ওমর ফারুক, নওগাঁ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সানম সাব্বির, সহসভাপতি এলমা খাতুন লোটাস, রাবেয়া আফরোজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান, অর্থ সম্পাদক নাফিস আরা পপি প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে এবং স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চায় বন্ধুসভার অবদানকে তুলে ধরে।
উৎসবের সমাপ্তি ও সম্পূর্ণতা
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশন করা হয় হরেক পদের খাবার, যা উৎসবের আনন্দকে করে তোলে পরিপূর্ণ। এই আয়োজন শুধু বৈশাখ উদ্যাপন নয়, বরং সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। নওগাঁ বন্ধুসভার এই কার্যক্রম বাংলা নববর্ষের চেতনাকে ধারণ করে সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে।



