কুড়িগ্রামে বন্ধুসভার অংশগ্রহণে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও মেলায় উৎসবের আমেজ
কুড়িগ্রামে বন্ধুসভার বৈশাখী শোভাযাত্রা ও মেলার উৎসব

কুড়িগ্রামে বন্ধুসভার সদস্যদের অংশগ্রহণে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও মেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম বন্ধুসভা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করেছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রায় বন্ধুসভার সদস্যরা বৈশাখী সাজে ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে তাঁরা কুড়িগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালায় আয়োজিত বৈশাখী মেলায় যোগ দেন।

বৈশাখী মেলায় পান্তাভাত থেকে লাঠিখেলা পর্যন্ত বৈচিত্র্যময় আয়োজন

মেলায় আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ও বন্ধুসভার সদস্যরা পান্তাভাত ও নানা ধরনের ভর্তার পসরা সাজিয়ে বসেন। পাশাপাশি নকশিপিঠার দোকান, টেপাপুতুল, চুড়ি, খেলনা, মুড়ি-মুড়কি ও জিলাপির স্টল স্থাপন করা হয়, যা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। শোভাযাত্রার ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ পর্বে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর-কনে, রাখাল, জেলে, তাঁতি এবং কিষান-কিষানির বেশে অংশ নিয়ে বৈশাখের রঙিন আবহ সৃষ্টি করেন।

নৃত্য, লাঠিখেলা ও খেলাধুলায় মেলার প্রাণবন্ততা

অনুষ্ঠানে আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা আঞ্চলিক বিয়ের গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। দুপুরের পর বাংলা ঢোলের তালে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা শুরু হয়, যেখানে দূরদূরান্তের চর থেকে আসা লাঠিয়াল দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা জমে ওঠে। এ ছাড়া যুবকদের জন্য হাডুডু ও দাঁড়িয়াবান্ধা খেলার আয়োজন করা হয়, যা মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্বোধন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার উপদেষ্টা সফি খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘোগাদহ ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তবিজন বেগম, প্রথম আলো প্রতিনিধি জাহানুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া শিমু, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, বন্ধুসভার বন্ধু স্বর্ণ, আরিফুল হক, জিয়ন, কাওসার, রাইতুলসহ অনেকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তব্য ও মূল্যায়ন

প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, "এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে দূরদূরান্তের চরের মানুষ একত্র হয়েছেন এবং লাঠিখেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলায় অংশ নিয়ে মেলাকে সর্বজনীন করে তুলেছেন।" কুড়িগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা সফি খান বলেন, "শহরের বাইরে চরের মানুষের অংশগ্রহণে এমন আয়োজন বৈশাখ উদ্‌যাপনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে এবং সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ করে দিয়েছে।"

এই আয়োজনটি কুড়িগ্রামে বাংলা নববর্ষের উৎসবকে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করেছে, যা স্থানীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতিফলন ঘটায়।