বিশ্বের ৭টি আজব সর্প উৎসব: ইতালি থেকে ভারত, সাপের পূজার অনন্য সংস্কৃতি
বিশ্বের ৭টি আজব সর্প উৎসব: ইতালি থেকে ভারত

সাপের নাম শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের মনে ভয়, রহস্য, সতর্কতা আর কৌতুহলের এক মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু পৃথিবীর অনেক প্রান্তে এই বুকে ভর দিয়ে চলা প্রাণীরা কেবল সমাদৃতই নয়, বরং তাদের দেবদূত বা ঈশ্বরের রূপ মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকগাথা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাপের নাম। তবে সাপের পূজা কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, ইতালির পাহাড়ি গ্রামেও রয়েছে সাপের অনন্য উৎসব। সেখানে সাধুদের মূর্তি জ্যান্ত ও বিষহীন সাপে মুড়িয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এই উৎসবগুলো কেবল সরীসৃপ নিয়ে নয়, বরং প্রকৃতি, উর্বরতা, সুরক্ষা, আর বন্যপ্রাণের সঙ্গে মানুষের বহু পুরোনো সম্পর্কের প্রতীক। পর্যটকদের চেনা ছকের বাইরে ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ দিতে পারে বিশ্বের এমন ৭টি আজব সর্প উৎসব:

রিতো দেই সেরপারি, ইতালি

বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সর্প উৎসবগুলোর একটি হলো ইতালির রিতো দেই সেরপারি। প্রতিবছরের ১ মে আব্রুজ্জোর কোকুলো নামের এক ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে এটি উদযাপিত হয়। একে সাপুড়েদের উৎসবও বলা হয়। উৎসবে সেন্ট ডমিনিকের একটি মূর্তি রাস্তা দিয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ডজন খানেক জ্যান্ত কিন্তু বিষহীন সাপে ঢাকা থাকে! রোমান-পূর্ব যুগের মার্সি উপজাতির সর্পদেবী আঙ্গিতিয়ার প্রাচীন আচার থেকে এই ঐতিহ্যের উৎপত্তি। প্রথমবার দেখলে এটি ভয়ানক মনে হতে পারে, তবে শান্ত থেকে ভিড় এড়াতে পর্যটকদের একটু সকাল সকাল পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাগ পঞ্চমী, ভারত ও নেপাল

প্রতিবছর জুলাই বা আগস্ট মাসে ভারত ও নেপালজুড়ে উদযাপিত হয় ‘নাগ পঞ্চমী’। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সর্প উৎসব। এই দিনে হিন্দু ভক্তরা সুরক্ষার জন্য সর্পরাজ এবং নাগ দেবতাদের পূজা করেন। উত্তর ভারতে এই দিনটি বেশ বড় আকারে মন্দিরে মন্দিরে আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। এটি একটি ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় পর্যটক ও আলোকচিত্রীদের মন্দিরের নিয়মকানুন মেনে চলার অনুরোধ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনসা পূজা, ভারত

বর্ষাকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে মনসা পূজা সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। হিন্দু ধর্মে দেবী মনসাকে সাপের দেবী এবং আরোগ্যকারী মনে করা হয়। মাটির তৈরি সাপের মূর্তি গড়ে মধ্যযুগীয় লোকগাথা ও লোকসংগীতের মাধ্যমে এই পূজা সম্পন্ন হয়। গ্রামীণ জীবন ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি দেখার জন্য এটি পর্যটকদের জন্য এক দারুণ সুযোগ।

নাগবা জাতারা, ভারত

তেলেঙ্গানার কেসলাপুর গ্রামে সর্পদেবতা নাগবা (শীষনাগ)-এর উদ্দেশ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী বা উপজাতীয় উৎসব। গোণ্ড সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের আদিপুরুষ সর্পদেবতা নাগবার সম্মানে এখানে জড়ো হন। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এটি এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা, তবে প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশ হওয়ায় এখানে আধুনিক পর্যটন সুযোগ-সুবিধা কিছুটা সীমিত।

নাগুলা চাভিথি, ভারত

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে দীপাবলির পরপরই এই উৎসবটি উদযাপিত হয়। নাগ দেবতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই উৎসবটি দেখলে বোঝা যায় কীভাবে সাপের পূজা আজও ওখানকার মানুষের সাধারণ পারিবারিক জীবনের সঙ্গে মিশে আছে।

পাইথন ফেস্টিভ্যাল, বেনিন

পশ্চিম আফ্রিকার বেনিনের উইদাহ এলাকায় এটি উদযাপিত হয়। স্থানীয় ভোদুন ঐতিহ্যে অজগর সাপকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। বার্ষিক এই উৎসবে অজগরকে কেন্দ্র করে নানা আচার, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এখানকার টেম্পল অব পাইথনস-এ রাজকীয় অজগরদের অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে রাখা হয়। পর্যটকদের এটিকে কোনও বন্যপ্রাণের প্রদর্শনী না ভেবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার এবং স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্নেক টেম্পল ফেস্টিভ্যাল, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পেনাং-এর বিখ্যাত স্নেক টেম্পল বা সর্প মন্দিরটি চীনা লোকবিশ্বাস এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসী চোর সু কং-এর জন্মদিন উদযাপনের জন্য পরিচিত। উৎসবের সময় ভক্তরা এখানে প্রার্থনার জন্য জড়ো হন। এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ হলো এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা পিট ভাইপার সাপ। মন্দিরে বেড়ানোর সময় পর্যটকদের কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলতে বলা হয় এবং সাপ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া